যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের লালসার শিকার হওয়ার তালিকায় যুক্ত হলো আরও এক নাম। ১৯ বছর বয়সে মডেলিং পেশায় থাকাকালীন এপস্টেইনের পাম বিচের বাড়িতে মাদক মিশ্রিত পানীয় খাইয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন এক নারী। বিবিসি নিউজনাইটের কাছে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিচয় গোপন রেখে ‘নিকি’ ছদ্মনামে তিনি সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।
নিকি জানান, দ্বিতীয়বার সাক্ষাতের সময় এপস্টেইন তাকে যৌনতায় বাধ্য করার চেষ্টা করলে তিনি ঋতুস্রাবের মিথ্যা অজুহাতে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এরপর তাকে এক গ্লাস পানি খেতে দেওয়া হয়। সেই পানি পান করার পরপরই তিনি দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা অচেতন বা ‘ব্ল্যাকআউট’ হয়ে থাকেন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি শারীরিক অসুস্থতা এবং নিগ্রহের আলামত বুঝতে পারেন। নিকির দাবি, অচেতন অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলেই এপস্টেইন পরে তার মিথ্যা অজুহাত ধরে ফেলেন।
সাক্ষাৎকারে নিকি সেই সময়ের মানসিক যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে বলেন, এই ঘটনার পর তিনি দীর্ঘকাল ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছেন, এমনকি আত্মহত্যার চিন্তাও তার মাথায় এসেছিল। বর্তমানে অন্যান্য ভুক্তভোগীদের সাহসের ওপর ভর করে তিনি নিজের নীরবতা ভেঙেছেন। তিনি মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন এপস্টেইন সংক্রান্ত প্রায় ২০ লাখ গোপন নথি কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই ‘সঠিক, সৎ ও নৈতিকভাবে’ প্রকাশ করা হয়।
সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া ‘এপস্টেইন ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন নিকি। তার মতে, একজন অপরাধীর নামে আইনের নামকরণ ভুক্তভোগীদের জন্য অপমানজনক এবং এটি অপরাধীকে এক প্রকার মহিমান্বিত করে। তিনি প্রস্তাব করেন, এই আইনের নাম ‘সারভাইভারস অ্যাক্ট’ হওয়া উচিত ছিল।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য ভুক্তভোগীদের এখন ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত এই অপরাধীর নামের উপস্থিতি আমাদের ট্রমা থেকে সুস্থ হতে দিচ্ছে না।” নিকির এই জবানবন্দি এপস্টেইনের ক্ষমতাধর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চলা বিচারিক দাবিকে নতুন করে বেগবান করেছে।
Leave a comment