যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় চর্চার অধিকার রক্ষা এবং কট্টরপন্থীদের বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক ও সাহসী অবস্থান নিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি লন্ডনের কিছু এলাকায় মসজিদের ভেতর জায়গার সংকুলান না হওয়ায় রাস্তায় ঈদের নামাজ আদায় করা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের (হাউস অব কমন্স) এক বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাস্তায় নামাজ পড়া কোনো অপরাধ নয় এবং ব্রিটেনের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন কিছু কট্টরপন্থী গোষ্ঠী ট্রাফিক জ্যাম ও নিরাপত্তার অযুহাত দেখিয়ে মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছিল। পার্লামেন্টে দেওয়া শক্তিশালী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাজ্য একটি বহুত্ববাদী দেশ। এখানে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। যদি মসজিদের ভেতর জায়গা না হওয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামাজ আদায় করা হয়, তবে তাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর কোনো সুযোগ নেই।”
প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ সমাজে মুসলিমদের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ অর্থনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (NHS)—সব ক্ষেত্রেই মুসলিমরা বিশাল ভূমিকা পালন করছেন। তাদের একটি পবিত্র উৎসবের দিনকে কেন্দ্র করে ঘৃণা ছড়ানো কাম্য নয়। যারা নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সবসময়ই বড় ধরনের ধর্মীয় সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে আসছে এবং এটি ব্রিটিশ সংস্কৃতির বৈচিত্র্যেরই বহিঃপ্রকাশ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা লন্ডনে বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্য মুসলিম দেশের নাগরিকদের মনে ব্যাপক সাহস ও নিরাপত্তার সঞ্চার করবে। এটি কেবল একটি আইনি স্পষ্টীকরণ নয়, বরং বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা।
প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের ফলে লন্ডনের রাস্তায় নামাজের বৈধতা নিয়ে চলা দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটল।
Leave a comment