ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নজিরবিহীন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ইয়াসামিন আনসারি এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে ট্রাম্পকে একজন ‘উন্মাদ স্বৈরাচার’ (Maniacal Tyrant) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় এক কড়া বিবৃতিতে আনসারি বলেন, হোয়াইট হাউস বর্তমানে এমন একজন ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যিনি নিজের দেশ এবং বাকি বিশ্বকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর।
ইরানি বংশোদ্ভূত এই আইনপ্রণেতা উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে ইরানি বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পুরো একটি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ হুমকি দিচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তিনি দাবি করেন।
আনসারি শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধযাত্রার ঘোর বিরোধী । তিনি বর্তমান সামরিক তৎপরতাকে ‘বেপরোয়া এবং অবৈধ’ হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছেন যে, এই সংঘাতের প্রভাব হবে ‘বিপর্যয়কর’। তাঁর মতে, এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের ফলে অসংখ্য মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এমন নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গভীর মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।
একদিকে ট্রাম্প সমর্থকরা একে ‘জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা ও ডেমোক্র্যাটরা একে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে গণ্য করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, তখন ওয়াশিংটনের ভেতরে এই তীব্র রাজনৈতিক বাদানুবাদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
Leave a comment