আকাশসীমায় এক মর্মান্তিক ও অস্বস্তিকর ঘটনার সাক্ষী হলেন ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিএ৩২ (BA32) ফ্লাইটের যাত্রীরা। গত ১৫ মার্চ হংকং থেকে লন্ডন অভিমুখী যাত্রার মাত্র এক ঘণ্টা পরেই ষাটোর্ধ্ব এক নারী যাত্রী মৃত্যুবরণ করেন। ফলে বাকি ১৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ওই মরদেহ নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে উড়াল দিতে হয় বিমানটিকে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ ও ‘ডেইলি এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ওই নারী নিথর হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্য ও ক্রুরা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেন যে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। সাধারণত মাঝ আকাশে কেউ অসুস্থ হলে জরুরি অবতরণ (Emergency Landing) করা হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে যাত্রী আগেই মারা যাওয়ায় বিষয়টিকে ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
মরদেহটি কোথায় রাখা হবে তা নিয়ে বিমানে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফ্লাইট ডেক থেকে মরদেহটি টয়লেটে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ক্রুরা তা নাকচ করে দেন। পরে মরদেহটি যথাযথ উপকরণ দিয়ে মুড়িয়ে বিমানের পেছনের অংশে একটি গ্যালিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, গ্যালির মেঝের হিটিং সিস্টেম (Heating System) সচল থাকায় ফ্লাইটের শেষ দিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা যাত্রীদের মধ্যে চরম অস্বস্তি তৈরি করে।
বিমানটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর পুলিশি তদন্তের স্বার্থে যাত্রীদের আরও ৪৫ মিনিট নিজ নিজ আসনে বসে থাকতে হয়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একজন মুখপাত্র শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমাদের ক্রুরা নির্ধারিত প্রোটোকল অনুসরণ করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।”
মরদেহটি বিমান থেকে নামানোর পর মরণোত্তর পরিচর্যার দায়িত্ব নেয় আমস্টারডামের শিফোল বিমানবন্দরের বিশেষায়িত দল। মর্চুয়ারিয়াম শিপোলের সমন্বয়কারী বেন ভস জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একটি বিশেষ দল অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর নিয়ম মেনে মরদেহটি গ্রহণ করে এবং পরবর্তী শেষকৃত্য বা দাহ সেবার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে।
মাঝ আকাশে মৃত্যুর ঘটনায় এয়ারলাইন্সগুলোর প্রোটোকল এবং যাত্রীদের মানসিক ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই ঘটনাটি।
Leave a comment