রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে রাস্তায় জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ কেমন হওয়া উচিত—এ নিয়ে নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মতবিনিময় চলছে। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
এ প্রেক্ষাপটে এক ফেসবুক পোস্টে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা আরশ খান। তিনি লেখেন,“মাননীয়, ইবাদত করলে তো সৃষ্টিকর্তার করেন, অবশ্যই ইমাম সাহেবের করেন না। তাহলে মাদক আটকাইতে উপরমহলে হাত দেন। পোলাপাইন হাতাচ্ছেন কেন!”
তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার ও আলোচিত হয়। অনেকে এটিকে রূপক ভাষায় উচ্চপর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ ভাষার তীব্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আরশ খান একই পোস্টে আরও লেখেন, “মেন্দি হাত থেকে উঠার আগে যেমন স্বামী মরা ভালো না, তেমনি এক মাস না যাইতেই ছিঃ ছিঃ শোনাও ভালো না।” মন্তব্যটি নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে; কেউ এটিকে সময়োপযোগী সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, আবার কেউ একে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া বলছেন।
অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া-ও পৃথক এক ফেসবুক পোস্টে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা ও সম্মান কমে যায়।
তার বক্তব্যেও নাগরিক অধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার প্রসঙ্গ উঠে আসে। ফারিয়ার পোস্টেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; অনেকে তার মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, আবার কেউ কেউ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোরতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একাংশের মতে, শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে আইনানুগ পদ্ধতি ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে আরেক অংশ মনে করছে, মাদক বা অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা প্রয়োজন এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।
Leave a comment