ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথবাক্য পাঠ করান বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
দীর্ঘ দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ন্যস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা—রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন?
রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভায় কোনো দায়িত্ব পাননি, যা জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
৭৯ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক কুমিল্লা-১ আসন থেকে এবারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন—১৯৯১, ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচন (১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন) এবং ২০০১ সালে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক খন্দকার মোশাররফ অতীতে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে নজরুল ইসলাম খান ও ড. আব্দুল মঈন খানের মতো সিনিয়র নেতারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খন্দকার মোশাররফকে মন্ত্রিসভায় না রাখা হতে পারে তাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিবেচনায় রাখার কৌশলগত অংশ।
২০২৩ সালে বগুড়ায় বিএনপির এক বিভাগীয় সমাবেশে দলটির নেতা জি এম সিরাজ বলেছিলেন—বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি হবেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সেই বক্তব্য আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, খন্দকার মোশাররফ সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কার্যক্রমে কিছুটা কম সক্রিয় থেকেছেন এবং নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। এতে রাজনৈতিক বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এর আগে তিনি বার্তা সংস্থা Reuters-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
যদিও রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা তুঙ্গে, তবে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। মন্ত্রিসভার শপথ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে স্পষ্টতা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।
রাষ্ট্রপতি পদটি সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান। তাই এই পদে কে আসছেন, তা শুধু রাজনৈতিক মহল নয়—সাধারণ জনগণের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন নজর দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের দিকে।
Leave a comment