ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনে চমক দেখিয়ে পূর্ণমন্ত্রী হলেন আরিফুল হক চৌধুরী। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. জয়নাল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭৫ ভোট। দু
এই বিজয়ের পর তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, যা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়।
স্থানীয় সরকার থেকে আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে দ্রুত পরিচিতি পান।
সে সময় নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান-এর আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন, যা তাকে সিলেটের রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী করে তোলে।
বিএনপি সরকারের পতনের পর ‘ওয়ান-ইলেভেন’ প্রেক্ষাপটে তিনি কারাবরণ করেন। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার সেই সময় অতিক্রম করে ধীরে ধীরে নিজের সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত করেন।
২০১৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র ও একাধিকবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে হারিয়ে সিলেটের রাজনীতিতে বড় চমক তৈরি করেন তিনি। পরবর্তী নির্বাচনেও কামরানকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।
২০২৩ সালের সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি মেয়র পদে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুরুতে তিনি সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন চান। সে আসন না পেলে অন্য কোনো আসনে নির্বাচন করবেন না—এমন অবস্থানও জানান। তবে শেষ মুহূর্তে, গত ৫ নভেম্বর দলীয় সিদ্ধান্তে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হতে সম্মত হন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, এই সিদ্ধান্তে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা ছিল। মাঠে নামার পর অল্প সময়েই প্রচারণায় গতি এনে তিনি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠালগ্নে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন।
তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির বিভাগীয় আহ্বায়কসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।
মন্ত্রী পদে মনোনীত হওয়ায় দল ও দলের চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার ভোটার ও সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তরণ—আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন তারই প্রতিফলন। এখন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কিভাবে তিনি সামলান, সেটিই হবে তার নতুন চ্যালেঞ্জ এবং রাজনৈতিক যাত্রার পরবর্তী মূল্যায়নের ক্ষেত্র।
Leave a comment