দেড় বছরের বিরতির পর আবারও রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় মুখর হতে যাচ্ছে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে নতুন সরকার।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের ভেতরে নির্ধারিত শপথ কক্ষে এই অনুষ্ঠান শুরু হবে। একইসঙ্গে শপথ নেবেন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরাও। শপথ অনুষ্ঠানটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের আলাদাভাবে শপথ পড়ানো হবে। এরপর তারা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন।
এ অনুষ্ঠান হবে সম্পূর্ণ সীমিত পরিসরে। শপথ কক্ষে কোনো অতিথির উপস্থিতি থাকবে না বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।
বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। উন্মুক্ত স্থানে নির্মিত অস্থায়ী প্যান্ডেলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার অতিথির জন্য বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সাধারণত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবন-এ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে এবার ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদ ভবনেই আয়োজন করা হয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি অতিথির উপস্থিতির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আয়োজক সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি অংশ নিতে পারেন। সেই লক্ষ্যে দক্ষিণ প্লাজায় নিরাপত্তা, প্রটোকল এবং কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে-এর। এছাড়া ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল-ও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা-রও অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক মহল বলছে, উচ্চপর্যায়ের বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নতুন সরকারের সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত বহন করছে।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে । আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি কূটনৈতিক নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে।
দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত পাস ও আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অতিথিদের জন্য আলাদা আসন বিন্যাস, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট কাভারেজ জোন এবং ভিআইপি প্রটোকল নিশ্চিত করা হয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর সংসদ ভবন এলাকায় আবারও ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। গত কয়েকদিন ধরেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। অর্থনীতি, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমন্বয়, প্রশাসনিক সংস্কার এবং সংবিধান সংশোধনসহ একাধিক ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথগ্রহণ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও নীতি-নির্ধারণী মহলে এ শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
দুই পর্বে আয়োজিত আজকের শপথ অনুষ্ঠান শুধু নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনাই নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নজর এখন ঢাকার সংসদ ভবনের দিকেই।
Leave a comment