আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোটে জুলাই সনদের বিপক্ষে ‘না’ ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আসিফ মাহতাব উৎস। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
ভিডিওতে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার কাছে জানতে চেয়েছেন—জুলাই সনদে তিনি ‘হ্যাঁ’ নয় ‘না’ ভোট দেবেন। বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত অনলাইনে সক্রিয় থাকতে না পারলেও বিপুল সংখ্যক বার্তার প্রেক্ষিতে তিনি সরাসরি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত জানান।
তিনি বলেন,“আমার উত্তর হচ্ছে, জুলাই সনদে আমি ‘না’ ভোট দেব ।
আসিফ মাহতাব তার আপত্তির কেন্দ্রে আনেন জুলাই সনদের ৮৪ নম্বর ধারাকে। তার দাবি, ওই ধারায় বলা হয়েছে—সনদ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ‘ওপেন গভর্মেন্ট পার্টনারশিপে’ (ওজিপি) যোগ দেবে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ওপেন গভর্মেন্ট পার্টনারশিপের সম্পর্ক কী এবং আন্দোলনের উদ্দেশ্য কি ছিল এই প্ল্যাটফর্মে যোগদান।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওপেন গভর্মেন্ট পার্টনারশিপের কিছু কার্যক্রম ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সনদ পাস হলে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।
ভিডিও বার্তায় তিনি জুলাই সনদের আরও কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে বলেন, ‘ইনক্লুসিভ’ এবং ‘সোশ্যাল জাস্টিস’—এ ধরনের শব্দচয়ন ভবিষ্যতে ভিন্ন নীতিগত ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব শব্দের প্রয়োগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক ইস্যু আইনগত কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার পথ তৈরি হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সনদ প্রণয়নকারীদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আসিফ মাহতাব ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, জুলাই সনদের সঙ্গে ইসলামের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। এ দাবির পক্ষে তিনি একটি টকশো আলোচনার অংশ তুলে ধরেন, যেখানে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যের একটি খণ্ডাংশ উদ্ধৃত করেন।
এছাড়া তিনি বলেন, সনদের পক্ষে প্রচারণায় বলা হচ্ছে—‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ফেরার পথ বন্ধ হবে। কিন্তু তার মতে, বাস্তবে সনদ পাস হলেও ভবিষ্যতে তা বাতিল করা সম্ভব হতে পারে।
ভিডিও বার্তায় জুলাই সনদের মাধ্যমে সম্ভাব্য উন্নয়ন নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন আসিফ মাহতাব। তার দাবি, উন্নয়নের যে চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে সনদের সমর্থকরা এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সুশাসন ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছেন। গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—উভয় পক্ষের প্রচারণা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গণভোটে জনমত নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নির্ভর করবে ভোটারদের রায়ের ওপর। গণভোটের ফলাফল অনুযায়ীই জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
ভিডিও বার্তার মাধ্যমে গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আসিফ মাহতাব উৎস। তার উত্থাপিত প্রশ্ন ও আপত্তি ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ পথচলা।
Leave a comment