শহীদ শরিফ ওসমান হাদির পরিবারকে একটি ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওসমান হাদির স্ত্রী এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দলিল ও চাবি তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি রেডি ফ্ল্যাট শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসনের নিশ্চয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুসরণ করেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের পরিবার যেন নিরাপত্তাহীনতায় না পড়ে—এটি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্র কখনো ভুলে যেতে পারে না। তাদের পরিবারকে সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, শহীদ পরিবারের আবাসন সমস্যার সমাধানে সরকার ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিচ্ছে। লালমাটিয়ার এই ফ্ল্যাট হস্তান্তর তারই একটি উদাহরণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পরিবারকে এই ধরনের সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাস্তব সহায়তার মাধ্যমেই এই স্বীকৃতি অর্থবহ হয়। তিনি বলেন, ওসমান হাদির পরিবারের হাতে ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন ঘটেছে।
ওসমান হাদি দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী একজন শহীদ হিসেবে পরিচিত। তার পরিবারের জন্য এই আবাসন সহায়তাকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন নীতির একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহীদ পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে এই ধরনের উদ্যোগ সামাজিক আস্থা ও রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের বিশ্বাস আরও জোরদার করে।
Leave a comment