আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন।
পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের দিনটি হওয়া উচিত গণতন্ত্রের উৎসবের দিন, যেখানে নাগরিকরা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
তার ভাষায়, “নির্বাচনের দিন মানুষ গর্ব ভরে ভোটার লাইনে দাঁড়াবে, নিজের অধিকার উদযাপন করবে, স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ধরে রাখতে ছবি তুলবে। এই স্বাভাবিক আনন্দ ও স্বাধীনতার ওপর কোনো ধরনের বাধা আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়।”
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভোটারদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার সীমিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কেউ যদি জনগণের এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে মনে রাখা উচিত—এই জাতি প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তাদের অধিকার রক্ষায় সব সময় সোচ্চার।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যে তরুণদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, তরুণ ভোটাররা শুধু ভোটার হিসেবেই নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখবে।
ভোটাধিকারের প্রশ্নে প্রয়োজনে আন্দোলনে নামারও ইঙ্গিত দেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “ভোটের অধিকার একবার লড়াই করে অর্জিত হয়েছে। প্রয়োজনে এই অধিকার আবারও লড়াই করেই রক্ষা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখা, গোপন ব্যালট নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপপ্রচার ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেন। নির্দেশনায় দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ভোটগ্রহণের দিন এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
Leave a comment