ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হলো দুর্নীতি। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্নীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনি ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান, সংস্কার ভাবনা এবং ৩০ দফা ইশতেহার জাতির সামনে তুলে ধরেন।
ভাষণে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, আর্থিক খাতে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ও প্রকাশ্য শাস্তি কার্যকর করা হবে। তার মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। অতীতে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন, তারা জনগণের প্রত্যাশিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভুল নীতি ও ভুল নেতৃত্ব নির্বাচনের কারণেই দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
এই প্রেক্ষাপটে জনগণকে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, পুরোনো ভুল থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্য, সৎ ও নীতিবান নেতৃত্বকে বেছে নেওয়াই সময়ের দাবি।
ভাষণে তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মূলনীতি ও নৈতিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তিনি দলের ৩০ দফা ইশতেহার পাঠ করেন এবং রাষ্ট্র সংস্কারে তাদের খাতভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল ব্যাখ্যা করেন।
ভোট প্রদানকে ইসলামের দৃষ্টিতে একটি ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে মুফতি রেজাউল করীম জনগণের প্রতি আহ্বান জানান—দলীয় আবেগের বাইরে গিয়ে সততা, যোগ্যতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করার জন্য।
Leave a comment