Home আন্তর্জাতিক মিয়ানমার থেকে গুলি, চিরনিদ্রায় শায়িত শিশু হুজাইফা
আন্তর্জাতিকজাতীয়

মিয়ানমার থেকে গুলি, চিরনিদ্রায় শায়িত শিশু হুজাইফা

Share
Share

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশু হুজাইফা আফনানক (৯) চিরনিদ্রায় শায়িত হলো নিজ এলাকার কবরস্থানে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জানাজা শেষে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল তেচ্ছি বিজ্র এলাকার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

হুজাইফার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সকাল থেকেই স্থানীয় মানুষ শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য তার বাড়িতে ভিড় করেন। জানাজার আগে-পরে কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কবরস্থানে মা–বাবার হৃদয়বিদারক কান্নায় উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

জানাজার নামাজে উখিয়া-টেকনাফ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহাজাহান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুর মোহাম্মদ আনোয়ারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন। তারা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং নিহত শিশুর জন্য দোয়া করেন।

জানাজা শেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিরীহ মানুষের প্রাণ ঝরে পড়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে শিশুদের মতো নির্দোষ প্রাণের মৃত্যু পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দেয়।

স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশু বা সাধারণ মানুষ এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়। তারা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে এলাকাবাসী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, সীমান্ত এলাকায় যেন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা সশস্ত্র অপরাধীরা অবস্থান করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় শিশু হুজাইফা আফনান। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানকার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।

দীর্ঘ ২৭ দিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে টেকনাফসহ আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

৩০০ নির্বাচনী আসন- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: পঞ্চগড়ে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা

হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়— ভৌগোলিক অবস্থানের মতোই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। রংপুর বিভাগের এই জেলায় রয়েছে দুটি সংসদীয়...

জুলাই গণহত্যার দায় স্বীকার করলেন জয়

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি এক বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনে প্রাণহানির প্রসঙ্গে মন্তব্য করে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।...

Related Articles

সুবিধাভোগীরা পূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিগ্রস্ত...

‘আমরা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবো’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম...

ওসমান হাদীর বোন পরিচয়ে নাহিদের পক্ষে ভোট চাওয়া নারী, হাদির পরিবারের কেউ নয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় একটি চাঞ্চল্যকর...

১২ ফেব্রুয়ারি ব্যর্থ হলে ৫ আগস্টও ব্যর্থ হবে : নাহিদ ইসলাম

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক সেই...