পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হয়েছেন বলে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে পাঠানো এক শোকবার্তায় বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা সন্ত্রাসবাদের বর্বর ও অমানবিক রূপকে আবারও সামনে এনেছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, মস্কো সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকায় অবস্থিত শিয়া উপাসনালয় ইমামবারগা খাদিজা-তুল-কুবরায় এই আত্মঘাতী হামলাটি ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের ভেতরে ও আশপাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি স্পষ্টভাবে ইসলামাবাদের ঘটনায় ভারতের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অর্থহীন বলে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার জন্য অন্যদের দায়ী না করে পাকিস্তানের উচিত সন্ত্রাসবাদ ও সামাজিক অস্থিরতার মূল কারণগুলোর দিকে নজর দেওয়া।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এই হামলার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন, যা ভারতের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরনের অভিযোগ বাস্তবতা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা মাত্র।
হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও নিন্দা ও শোকের বার্তা আসতে থাকে। ইসলামাবাদে আফগানিস্তান দূতাবাস গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বেসামরিক নাগরিক ও উপাসনালয়ে হামলাকে অযৌক্তিক সহিংসতা বলে আখ্যা দেয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে তেহরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই হামলার নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বেসামরিক নাগরিক ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ’অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি এ. বেকার বলেন, পাকিস্তানিদের নিরাপদ পরিবেশে ভয়মুক্তভাবে ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে এবং উপাসনালয়ে হামলা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
এছাড়া জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক এক বিবৃতিতে বলেন, সব উপাসনালয়কে এ ধরনের সহিংসতা থেকে নিরাপদ রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে এই হামলায় হতবাক ও গভীরভাবে দুঃখিত বলে জানান।

Leave a comment