লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন—দেশটির কয়েকটি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এমন দাবি উঠে এসেছে। তবে ঘটনাটির বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট সরকারি বিবৃতি বা স্বতন্ত্রভাবে যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশিত হয়নি, ফলে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সাইফ আল-ইসলামের আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান পৃথক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তার মৃত্যুর খবর উল্লেখ করেন। তারা ঘটনাটির বিস্তারিত পরিস্থিতি প্রকাশ করেননি, তবে দাবি করেন, এটি একটি সহিংস হামলার ফল।
লিবিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিনতান শহরে নিজ বাসভবনে সশস্ত্র হামলায় সাইফ আল-ইসলাম নিহত হন। একই ধরনের দাবি তার রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি বাসভবনে প্রবেশ করে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সেখানে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং নিরাপত্তা ক্যামেরা অকার্যকর করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ত্রিপোলিভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনার বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হাই স্টেট কাউন্সিলের সাবেক প্রধান খালেদ আল-মিশরি এক বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, লিবিয়ার চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি লিবিয়ার রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ নাম। ২০০০–এর দশকে তাকে তার বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হতো। তিনি নিজেকে একজন সংস্কারমুখী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন এবং সংবিধান প্রণয়ন, মানবাধিকার এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
২০১১ সালে লিবিয়ায় বিদ্রোহ ও সংঘাতের সময় মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হলে তার শাসনের অবসান ঘটে। একই সময় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে সাইফ আল-ইসলাম জিনতান অঞ্চলে আটক হন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে একটি সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তির খবর প্রকাশিত হয়।
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির নাম আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া এবং লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব—উভয় ক্ষেত্রেই আলোচিত। তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা, সম্ভাব্য প্রার্থিতা বা সমর্থকদের সক্রিয়তা নিয়ে অতীতে নানা আলোচনা হয়েছে। ফলে তার মৃত্যুর দাবির বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তথ্যপ্রবাহ প্রায়ই বিভ্রান্তিকর হতে পারে। বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে তথ্য ব্যবহার বা প্রচার করতে পারে। এ কারণে কোনো বড় ঘটনার ক্ষেত্রে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এখন পর্যন্ত লিবিয়ার কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।
Leave a comment