সিরিয়ার প্রখ্যাত অভিনেত্রী হুদা শারাউইয়ের মরদেহ রাজধানী দামেস্কে তার নিজ বাসভবন থেকে উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-ওয়াতান এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিনেত্রীর গৃহকর্মীকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সিরীয় শিল্পী সমিতির প্রধান মাজেন আল-নাতুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলে ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তিনি বলেন, “ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
পুলিশ ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। বাসভবনের ভেতর থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রে জানা যায়। তদন্তকারীরা এটিকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ নাকি বৃহত্তর কোনো অপরাধচক্রের অংশ—তা যাচাই করে দেখছেন। হুদা শারাউই আরব বিশ্বের টেলিভিশন দর্শকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। জনপ্রিয় সিরিজ বাব আল হারা-তে ‘উম্মে জাকি’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। চরিত্রটির মানবিক উপস্থাপনা ও অভিনয় দক্ষতার জন্য তিনি বহু দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নেন।
ষাটের দশকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবন শুরু হলেও পরবর্তীতে টেলিভিশন নাটকেই তিনি বেশি পরিচিতি পান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য নাটক ও ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি সিরীয় সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দুইবার সিরীয় শিল্পী সমিতির ‘সেরা অভিনেত্রী’ সম্মাননা লাভ করেন।
তার মৃত্যুতে সিরিয়া ও আরব বিশ্বের বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত ও সহশিল্পীরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। অনেকে তাকে সিরীয় টেলিভিশন নাটকের এক স্বর্ণযুগের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজধানী দামেস্কসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সশস্ত্র ডাকাতি, চুরি ও সহিংস অপরাধের ঘটনা বেড়েছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
তবে নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হুদা শারাউই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার পর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নিরাপত্তা ও প্রবীণ শিল্পীদের সুরক্ষা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Leave a comment