ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমেই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলবাজ রাজনীতির অবসান ঘটবে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রচারণা কর্মসূচিতে স্থানীয় সমর্থক ও কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে এখনো সমতাভিত্তিক পরিবেশ বা “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” নিশ্চিত হয়নি। তার দাবি, একটি পক্ষ কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। তবে এসব চাপে জনগণ ভীত নয় ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “ ১২ ফেব্রুয়ারি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দখলবাজদের শেষ দিন হবে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি ভোটারদের সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “চিন্তাভাবনা করে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিন—যিনি সত্যিকার অর্থে এলাকার ও দেশের পরিবর্তন করতে সক্ষম।”
প্রচারণায় তিনি দলীয় প্রতীক “শাপলা কলি”-তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণভোটে একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনি সময় ঘনিয়ে এলে প্রার্থীরা সাধারণত সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। নাহিদ ইসলামের বক্তব্যেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা গেছে।
ঢাকা-১১ আসনটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের একটি অংশ নিরাপত্তা, নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার ইস্যু হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণা কার্যক্রম আরও জোরদার হওয়ার আভাস মিলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো, সভা-সমাবেশ আয়োজন এবং ভোটারদের কাছে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য নির্বাচনি উত্তাপ বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক আলোচনাকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে। তবে ভোটের পরিবেশ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং ভোটার উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a comment