বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে টানা আপত্তি, ক্ষোভ এবং প্রকাশ্য পদত্যাগের দাবির মুখে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত জরুরি অনলাইন বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে বোর্ড সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তবে বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এম নাজমুল ইসলাম আপাতত বোর্ড পরিচালক হিসেবেই বহাল থাকছেন। কারণ, বিসিবির সংবিধান অনুযায়ী কোনো পরিচালককে পদচ্যুত করার নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত রয়েছে—মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি, আর্থিক দেউলিয়াত্ব, পরপর তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকা অথবা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ। এসব শর্তের কোনোটিই বর্তমানে নাজমুল ইসলামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
এর ফলে বোর্ডের পক্ষ থেকে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো গেলেও, পরিচালকের আসন শূন্য করার আইনি বা সাংবিধানিক সুযোগ নেই। বোর্ড সূত্র বলছে, একমাত্র তিনি নিজে পদত্যাগ করলে তবেই পরিচালকের পদ খালি হবে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় সাম্প্রতিক সময়ে এম নাজমুল ইসলামের একাধিক বক্তব্যকে ঘিরে। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের আয়ের উৎস, পেশাদারিত্ব ও ভূমিকা নিয়ে তার মন্তব্য ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করে। অনেক ক্রিকেটার এসব বক্তব্যকে অসম্মানজনক ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন।
এরপর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)। সংগঠনটি নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে “ক্রিকেটারদের অবমূল্যায়ন” হিসেবে বর্ণনা করে তার পদত্যাগ দাবি করে। জাতীয় দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার এবং অধিনায়ক পর্যায়ের খেলোয়াড়রাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বোর্ডের আর্থিক নীতিনির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার এমন বিতর্কিত মন্তব্য বিসিবির ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ক রক্ষায় এবং সংকট প্রশমনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিসিবির আর বিকল্প ছিল না।
জরুরি সভার পর বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ক্রিকেটারদের মনোভাব আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। পরিস্থিতি সামাল দিতে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী পরিচালকের বিষয়ে আমাদের হাত বাঁধা।”
এখন প্রশ্ন উঠছে, এম নাজমুল ইসলাম নিজ থেকে পদত্যাগ করবেন কি না। বোর্ডের অভ্যন্তরে কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোই তার জন্য সম্মানজনক পথ হতে পারে। অন্যদিকে, নাজমুল ইসলাম এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি।
এই ঘটনাপ্রবাহ বিসিবির ভেতরের ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ক্রিকেটার-প্রশাসন সম্পর্কের স্পর্শকাতর দিকগুলো নতুন করে সামনে এনেছে। সামনের দিনগুলোতে নাজমুল ইসলামের অবস্থান এবং বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপই ঠিক করবে, এই সংকট কত দ্রুত কাটে।
Leave a comment