যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন মার্কিন বামপন্থিদের আস্থার প্রতীক জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোরের কিছু সময় পর ম্যানহাটনের একটি ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে তিনি কোরআন হাতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শপথের আয়োজনে মামদানি তিনটি কোরআন ব্যবহার করেন। অনুষ্ঠানে তার হাতে দুটি কপি ছিল—একটি তার দাদার এবং অপরটি ১৮শ শতকের শেষভাগ বা ১৯শ শতকের শুরুতে তৈরি একটি পকেট কোরআন। এ পবিত্র কোরআনের ঐতিহাসিক কপিগুলো নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শমবার্গ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ব্ল্যাক কালচারের সংগ্রহ থেকে আনা হয়েছিল।
শপথের সময় জোহরান বলেন,“এটা সত্যিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্য।”
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল ও রাজনৈতিক মিত্র লেটিশিয়া জেমস শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সাবওয়ে স্টেশনটি শহরের প্রাচীনতম স্টেশনগুলোর মধ্যে একটি, যা খিলান করা ছাদের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
মামদানি ৩৪ বছর বয়সে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি নিউইয়র্কের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী, প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া মেয়র হিসেবে শহরের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নজির স্থাপন করেছেন।
নির্বাচনি প্রচারে তিনি মূলত জীবনযাত্রার সহনীয় খরচ বা ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি’ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ভোটের আক্ষেপ উপস্থাপন করেন। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট এই নেতা নগরীর মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, বিনামূল্যে শিশু দেখভাল, ফ্রি বাস সার্ভিস এবং প্রায় ১০ লাখ পরিবারের জন্য ভাড়া স্থগিত (রেন্ট ফ্রিজ) কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া তিনি সিটি করপোরেশনের পরিচালনায় পরীক্ষামূলক মুদি দোকান চালুর কথাও ঘোষণা করেছেন।
জোহরান মামদানি উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন, খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং শিক্ষাবিদ-লেখক মাহমুদ মামদানির সন্তান তিনি। সাত বছর বয়সে পরিবার নিয়ে নিউইয়র্কে আসেন। ৯/১১-র পর মুসলিম হিসেবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে বড় হওয়া মামদানি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।
মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জোহরান মামদানি নিউইয়র্কে রূপান্তরমূলক পরিবর্তনের অঙ্গীকার দিয়েছেন। তার লক্ষ্য শহরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন করা। সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা, শহরের নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা— এ তিনটি মূল ভিত্তির উপর নতুন মেয়রের দায়িত্বশীল পথচলা শুরু হলো।
Leave a comment