Home জাতীয় ৭৮ বছর পরও ব্রিটিশ আমলের আইনেই চলছে বাংলাদেশ
জাতীয়

৭৮ বছর পরও ব্রিটিশ আমলের আইনেই চলছে বাংলাদেশ

Share
Share

সাব্বির আহাম্মেদ | স্বাধীনতার প্রায় আট দশক পরও বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা এখনও অনেকাংশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের আইনের ওপর নির্ভরশীল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর কিছু সংশোধন আনা হলেও মূল আইন কাঠামোর বড় অংশ অপরিবর্তিত রয়ে গেছে—যা আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে দণ্ডবিধি, ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এবং প্রমাণ আইন, ১৮৭২—সবই ব্রিটিশ শাসনামলে প্রণীত। এসব আইন মূলত ঔপনিবেশিক শাসকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তৈরি হয়েছিল, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, ডিজিটাল অপরাধ, মানবাধিকার ইস্যু এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এসব আইন এখন আর কার্যকরভাবে খাপ খায় না। সাক্ষী সুরক্ষার অভাব, ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা—এসব সমস্যাই ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সংবিধানের ১৪৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে স্বাধীনতার পর পূর্ববর্তী আইনগুলো বহাল রাখা হয়, যার ফলে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের বহু আইন আজও কার্যকর রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমলের ২২২টি এবং পাকিস্তান আমলের ১৪৭টি আইন চালু আছে। কিছু আইন তো ১৭৯৯ সালের মতো পুরোনো।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোলায়মান তুষার বলেন, “ব্রিটিশরা এসব আইন নিজেদের স্বার্থে তৈরি করেছিল। সময় বদলেছে, অপরাধের ধরন বদলেছে—এখন এসব আইন সংশোধন করা জরুরি।”

অন্যদিকে আইনজীবী সাইয়েদ আহমেদ মনে করেন, “সমাজ, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধ পরিবর্তিত হচ্ছে, কিন্তু পুরোনো আইনগুলো সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

ফৌজদারি কার্যবিধিতে এখনো কার্যকর সাক্ষী সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই, যা বিশেষ করে সংবেদনশীল মামলায় বড় দুর্বলতা। একইভাবে দেওয়ানি কার্যবিধি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়।

প্রমাণ আইন, ১৮৭২-ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না, বিশেষ করে ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে। যদিও কিছু সংশোধন আনা হয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে তা যথেষ্ট নয়।

আইন বিশেষজ্ঞ দীপ্তি শিকদার বলেন, “শুধু শাস্তি বাড়ালেই হবে না, আইনের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে দণ্ডবিধি ও প্রমাণ আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও একটি সামগ্রিক আইন সংস্কার উদ্যোগ। তা না হলে স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও দেশের বিচারব্যবস্থায় ঔপনিবেশিক আইনের ছায়া থেকেই যাবে।

 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

জাতিসংঘ গঠন করলো হরমুজ টাস্ক ফোর্স যুদ্ধ ঠেকাতে

জাতিসংঘ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বাণিজ্য প্রবাহ সচল রাখার জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ইরান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে...

বাঁশখালীতে অবৈধ বাঁধ নির্মাণে আওয়ামী লীগ নেতা দণ্ডিত

চেচুরিয়ার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খনন করা আদর্শ গ্রামের খালের দুইটি মুখ অবরুদ্ধ করে বাঁধ নির্মাণ ও খাল ভরাটের ঘটনায় শফিকুর রহমান (৫০)...

Related Articles

মোংলা বন্দরে আবারো জ্বালানি সংকটে স্থবিরতা

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ ‎মোংলা বন্দরে জ্বালানি তেল সংকটের কারণে পণ্য খালাস ও...

জামালপুরে শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের হামলায় পিতা নিহত , ছেলের শ্বশুরসহ আটক ৬

জামালপুরে ছেলে ও ছেলের বউয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহের জের ধরে শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের...

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান-বাংলাদেশ ইপিএ চুক্তি

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর সাথে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেটরো)-এর কান্ট্রি...

জামালপুরে হামে আক্রান্ত ১০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে গত কয়েক দিনে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মোট ১০...