মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ ও চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করেছে। বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ ইরান বন্ধ করে দেওয়ায় কঠোর অবস্থানে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো শর্ত ছাড়াই এই জলপথ উন্মুক্ত না করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আঘাত হেনে সেগুলোকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই চরম উসকানিমূলক বিবৃতির পরপরই ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যদি ইরানের জ্বালানি বা শক্তি পরিকাঠামোতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে তেহরান। দুই পরাশক্তির এই মারমুখী অবস্থানে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। পারমাণবিক স্থাপনার মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে এই হামলায় অন্তত ৪৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নিকটস্থ আরাদ শহরের হাসপাতালে অন্তত ৮৮ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরিস্থিতিটিকে একটি ‘অত্যন্ত কঠিন সন্ধ্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নোনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই শান্তি আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। যদিও ট্রাম্প সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সৈন্য গুটিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে ৪৮ ঘণ্টার এই আলটিমেটাম সংঘাতকে আরও ঘনীভূত করেছে। এদিকে জি৭-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর বিষণ্ণতা বিরাজ করছে। নতুন বছর বা ঈদের মতো উৎসবের আবহাওয়া সংঘাতের কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে।
Leave a comment