মাত্র ৩০ টাকা—সংসারের দৃষ্টিতে তুচ্ছ একটি অঙ্ক। অথচ সেই সামান্য অর্থ নিয়েই দাম্পত্য কলহের চরম ও ভয়াবহ পরিণতি ঘটল উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া এলাকায়। সন্তানের গৃহশিক্ষকের বেতন দেওয়ার জন্য টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত নারীর নাম রুবিয়া সুলতানা (২৩)। তাঁর স্বামী রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে হাড়োয়া থানার পুলিশ। হাড়োয়া থানার অন্তর্গত বরোজ পশ্চিমপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দম্পতির একটি সন্তান রয়েছে, যাকে পড়াতেন একজন গৃহশিক্ষক। সেই শিক্ষকের পারিশ্রমিক দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পতির মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। অভিযোগ, স্বামী রবিউল ইসলাম গৃহশিক্ষকের বেতন নিয়মিত দিচ্ছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে স্ত্রী রুবিয়া সুলতানা স্বামীর কাছে মাত্র ৩০ টাকা চান—যাতে সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটানো যায়।
এই অনুরোধ থেকেই শুরু হয় তীব্র বচসা। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে রুবিয়া রাগ করে বাপের বাড়িতেও চলে যান। পরে দুই পরিবারের আলোচনার মাধ্যমে দাম্পত্য কলহ মিটে যায় এবং তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।
তবে সেই ‘সমাধান’ স্থায়ী হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতে আবারও সেই ৩০ টাকা নিয়েই নতুন করে ঝগড়া শুরু হয়। প্রতিবেশীদের দাবি, ওই সময় দম্পতির মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা রুবিয়াকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে।
হাড়োয়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে শ্বাসরোধে হত্যার ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম বলেন, “এর আগেও আমরা দুই পরিবারকে ডেকে মীমাংসা করে দিয়েছিলাম, যেন তাঁরা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসার করেন। কিন্তু এমন নৃশংস ঘটনা ঘটবে, তা কল্পনাও করা যায়নি। আমরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এই ঘটনা আবারও পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ বাস্তবতা সামনে এনে দিল ।
Leave a comment