আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রে তাৎপর্যপূর্ণ মোড় এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনের বেজমেন্ট-২ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে কমিশন এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। শুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর যুক্তি ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জরুল আহসান মুন্সী এবং ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী, এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ—দুজনের মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি আপিল করা হয়। উভয় পক্ষই একে অপরের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন জানিয়ে কমিশনের কাছে আপিল করে।
দীর্ঘ শুনানি ও আইনগত পর্যালোচনার পর নির্বাচন কমিশন মঞ্জরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে কমিশন ঘোষণা করে যে, হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বৈধ রয়েছে এবং তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মনোনয়ন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আইনগত যোগ্যতা, দাখিলকৃত কাগজপত্রের সঠিকতা এবং আপিল সংক্রান্ত বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। নির্বাচন আইন ও বিধিমালার আলোকে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বহাল থাকায় ১০ দলীয় জোটের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেবিদ্বার এলাকায় রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা গেলেও জোট সমর্থকদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা বলছেন, কুমিল্লা-৪ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রার্থী তালিকায় হঠাৎ পরিবর্তন ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী দলের প্রার্থী বাদ পড়ায় ভোটারদের সমীকরণ ও কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে।
Leave a comment