নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে এলাকায় মারামারির একটি ঘটনা ঘটেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।
শনিবার রাত ১০টার দিকে হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে ধর্ষণের অভিযোগ ছড়িয়েছে, তা তদন্ত করে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে শুক্রবার রাতে চানন্দী ইউনিয়নে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে তিন সন্তানের জননীকে নিজ ঘরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। শনিবার দুপুরে তিনি নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তদন্ত শেষে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিনিধি পাঠানো হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই এলাকায় একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে ধর্ষণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ আরও জানায়, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি ঘটনার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলে তথ্য মিলেছে। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
তবে ভুক্তভোগী পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তা আমলে নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন রনি এক বিবৃতিতে বলেন, সারাদিন যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি দাবি করেন, বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এ ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
Leave a comment