রাজধানীর উত্তরা এলাকায় শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী এবং আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোমের মিয়া সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টিও নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।”
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বিমানের এমডি ড. মো. সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী এবং একই বাসায় কর্মরত আরও দুই গৃহকর্মী। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাটির পেছনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে মামলাটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে উঠেছে। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার জানান, আসামিদের জামিন শুনানি আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।
শিশু গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে দেশে বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গৃহকর্মে নিযুক্ত শিশুদের একটি অংশ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগ সামনে এলে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর বার্তা যায়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুর পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আদালত ও তদন্ত সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে এসব দিক নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুর বক্তব্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং ঘটনার আলামতসহ অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে তারা জানিয়েছেন, প্রভাব বা পদমর্যাদা বিবেচনায় না নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে শিশু গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, পরিবার ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগ এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার চারজনই পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a comment