সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার এক পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১০ বছর বয়সী ফাইজা আক্তার দেশে ফিরেছে। তবে সে এখনও জানে না—তার বাবা-মা ও দুই বোন আর বেঁচে নেই।
ফাইজা মনে করছে, তার বাবা-মা ও বোনরাও তার মতোই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সে স্বজনদের জানিয়েছে, সবাই সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরবে এবং একসঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করবে। নতুন জামা পরে বাবার সঙ্গে ঈদ মেলায় যাওয়ার স্বপ্নের কথাও বলেছে সে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক আঘাতের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এখনো তাকে দুর্ঘটনার ভয়াবহ সত্য জানানো হয়নি।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে সৌদি আরবে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), তাদের মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী কন্যা সুবহা আক্তার। একই দুর্ঘটনায় গাড়িচালক মো. জিলানী বাবর (৩০) মারা যান।
পরিবারটি গত ৩ ফেব্রুয়ারি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিল। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বাসায় ফেরার সময় সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
দুর্ঘটনায় আহত ফাইজা আক্তারকে জেদ্দা শহরের কিংস ফয়সাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে তার মামা তানভীর হোসেন তাকে নিয়ে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সোমবার ভোরে তারা লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামে পৌঁছান।
ফাইজা ওই গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির বাসিন্দা প্রয়াত মিজানুর রহমানের মেজো মেয়ে। সে স্থানীয় টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
মামা তানভীর হোসেন বলেন, “ফাইজা এখনও জানে না তার বাবা-মা ও দুই বোন মারা গেছে। সে বিশ্বাস করে তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আমরা এখনো তাকে কিছু জানাইনি। চিকিৎসকরা বলেছেন, মানসিকভাবে প্রস্তুত না করে এমন সংবাদ দিলে তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।”
নিহতদের মরদেহ বর্তমানে জেদ্দার একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর লাশ দেশে পাঠানো হবে।
স্থানীয়ভাবে পরিবারটির জন্য শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামবাসী ও স্বজনরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে যথাযথ ধর্মীয় রীতিতে দাফন সম্পন্ন করা যায়।
রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটিতে শোকের মাতম চলছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সম্প্রতি সৌদি আরবে যান।
Leave a comment