গৃহযুদ্ধে জর্জরিত উত্তর পূর্ব আফ্রিকার দেশ সুদানে এবার এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দেশটির উত্তর দারফুর প্রদেশের ‘গারা আল-জাওয়াইয়া’ গ্রামে চলমান একটি প্রথাগত আদালতের বিচারকাজ চলাকালে এ বোমা বর্ষণের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ভয়াবহ হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামটির একটি খোলা স্থানে গাছের নিচে বসে গোত্রীয় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথাগত বিচারকার্য পরিচালনা করা হচ্ছিল। সে সময় হঠাৎ করেই একটি ড্রোন থেকে সেখানে সরাসরি বোমা ফেলা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা এবং ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ৩৫ জন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন।
নিহতদের মধ্যে ৪ জন প্রভাবশালী স্থানীয় সমাজপতি এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর ২ জন কমান্ডার রয়েছেন বলে জানা গেছে।উদ্ধারকারীদের মতে, যে গ্রামটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি বর্তমানে আরএসএফ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে প্রতিপক্ষ সুদানি সেনাবাহিনী নিয়মিত ওই এলাকায় আকাশপথে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের জাতীয় সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলে আসছে। এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের সাম্প্রতিক ধাপে উভয় পক্ষই ব্যাপকভাবে ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কেবল এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। লাগাতার সংঘর্ষের কারণে সুদানে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
Leave a comment