ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ বিরতির পর দেশের মাটিতে নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের বার্তা দিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নে অবস্থিত তার শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রচারাভিযান শুরু করেন তিনি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা করেন। এ সময় পুরো এলাকা স্লোগান, করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে।
প্রচারণার সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন,“নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী আমরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষে ভোট চাইতে পারি। এখন আমাদের দায়িত্ব—ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা।”
তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনই হবে বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগঘন কণ্ঠে তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বহু বছর পর তিনি ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান একসঙ্গে এই এলাকায় এসেছেন। তিনি বলেন,
“বহুদিন পর, বহু বছর পর আপনাদের এলাকার সন্তান ডা. জুবাইদা রহমান এবং আমি বাড়িতে এসেছি। আজ আপনাদের মেয়ে যখন এখানে এসেছে, তখন তার সম্মান আপনাদেরই রক্ষা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,“আপনাদের মেয়ের সম্মান তখনই নিশ্চিত হবে, যখন এই এলাকায় ধানের শীষ জয়যুক্ত হবে।”
তার এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে আবেগ ও সাড়া লক্ষ্য করা যায়। অনেককে স্লোগানে স্লোগানে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাতে দেখা যায়।
তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন—“এই এলাকা থেকে, বিরাইমপুর থেকে, দক্ষিণ সুরমা থেকে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে পারবেন তো?”
এর জবাবে সমবেত জনতা একযোগে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এর আগে বুধবার রাত ৮টার কিছু পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে তারেক রহমান সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে পৌঁছান। সেখানে তিনি মাজার জিয়ারত করেন এবং দেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন। এরপর তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী–এর কবরেও শ্রদ্ধা জানান।
পরবর্তীতে রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশে রওনা হন এবং রাত সোয়া ১০টার দিকে সেখানে পৌঁছে জিয়ারত সম্পন্ন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্বশুরবাড়ি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার মাধ্যমে তারেক রহমান একদিকে ব্যক্তিগত আবেগ ও সাংস্কৃতিক সংযোগকে গুরুত্ব দিয়েছেন, অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলকে রাজনৈতিকভাবে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। দক্ষিণ সুরমা ও আশপাশের এলাকাগুলো ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখান থেকে প্রচারণা শুরু করা বিএনপির কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিলেট সফরের পর তারেক রহমান পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনী জনসভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তারেক রহমানের এই সফর ও বক্তব্য বিএনপির নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলেই মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
Leave a comment