লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় নিহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ৮২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় গত ১২ দিনে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২ হাজার ৯ জন। ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতায় দেশজুড়ে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চলমান হামলায় নিহতদের মধ্যে ১০৬ জন শিশু এবং ৬৫ জন নারী রয়েছেন। সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি অবকাঠামো ও জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে হামলা হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
হামলার শিকার হচ্ছেন চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সর্বশেষ বুরজ কালাউইয়া এলাকার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ দুই স্বাস্থ্যকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলি বোমা হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইতোমধ্যে লেবাননের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। এতে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক চাপে পড়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবানন ও রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, যা দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
Leave a comment