জাতিসংঘের একটি বিশেষ প্রতিবেদনের তথ্যগত ত্রুটি এবং পক্ষপাতদুষ্টতা নিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছে ভারত। জাতিসংঘের একটি বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে ভারতের প্রতিনিধি রঘু পুরি স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন যে, ওই প্রতিবেদনে ভারত সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুতর ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, যা প্রকৃত পরিস্থিতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে।
প্রতিবেদনের ত্রুটি তুলে ধরে রঘু পুরি জানান, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০০৩ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে অপরাধী চক্র ‘ডি কোম্পানি’-র নেতাকে তালিকাভুক্ত করেছিল। কিন্তু এই তথ্যটি একপেশেভাবে উপস্থাপন করায় প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও বাস্তব চিত্র আড়াল হয়ে গেছে। ভারতের দাবি, ১৯৯৩ সালের মুম্বাই ধারাবাহিক বোমা হামলার মতো ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনার মূল হোতা হিসেবে দাউদ ইব্রাহিমকে বহু আগে থেকেই খুঁজছে ভারত। এমনকি জাতিসংঘের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞাব্যবস্থার মূল বিবরণেও ভারতের এই অবস্থানের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে এই ঐতিহাসিক তথ্য বাদ পড়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতীয় কূটনীতিক আরও কঠোর ভাষায় বলেন, বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এ ধরনের পেশাগত অদক্ষতা ও ভুল তথ্য পরিবেশন খোদ জাতিসংঘের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে পরিষ্কার পক্ষপাতের লক্ষণ রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এ সময় আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ওঠা নানা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তেরও তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের স্পর্শকাতর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নৈতিকতা, সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা একান্ত আবশ্যক। এছাড়া সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া কিছু স্বার্থান্বেষী পক্ষ নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে ধামাচাপা দিতে মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনি কাঠামোকে অপব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের এসব বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার সরাসরি বিশ্ব সংস্থাটির নিয়মিত বেতনভুক্ত কর্মী নন এবং তাঁদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের নিয়ম রয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের এই ফোরামেই পাকিস্তানের প্রতিনিধির মন্তব্যের তীব্র জবাব দিয়েছে ভারত। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মূল পরিকল্পনা ও নির্দেশদাতা আল-কায়েদার শীর্ষ নেতারা যে পাকিস্তানের কোনো দুর্গম বা নিয়ন্ত্রণহীন পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন না, বরং দেশটির একটি জনবহুল ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত সামরিক এলাকার গভীরে (অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান) বহালতবিয়তে বসবাস করছিলেন—সে বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ভারত।
রঘু পুরি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, সন্ত্রাসবাদকে কোনো অবস্থাতেই কোনো অজুহাতে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রতিনিধির দেওয়া ভিত্তিহীন বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের ওই সমস্ত প্রলাপ মূলত তাদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের এক ব্যর্থ ও মামুলি অপপ্রচার মাত্র।
জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ প্রসঙ্গে ভারতের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পুরি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও সার্বভৌম অঙ্গ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই টিকে থাকবে। পাকিস্তানের প্রতিনিধির এসব অবাস্তব ও কাল্পনিক বক্তব্য নিয়ে অহেতুক কোনো মন্তব্য করে সেগুলোকে আর বাড়তি কোনো গুরুত্ব দিতে নারাজ ভারত।
Leave a comment