Home আন্তর্জাতিক রাশিয়া তেলের ওপর বড় ছাড় দিচ্ছে ভারতকে
আন্তর্জাতিক

রাশিয়া তেলের ওপর বড় ছাড় দিচ্ছে ভারতকে

Share
Share

ভারতের কাছে বিক্রি হওয়া রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি আরও ৩ থেকে ৪ ডলার কমিয়েছে মস্কো। মার্কিন শুল্কের বাড়তি বোঝা বহন করার পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির জন্য এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানায়, সেপ্টেম্বরে শেষের দিকে এবং অক্টোবরে রওনা হওয়া রাশিয়ার ইউরাল গ্রেডের কার্গোগুলোতে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত। পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রশাসন রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করে। এর মধ্যেই রাশিয়া দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিলো, যা ভারতের জন্য জ্বালানি আমদানি আরও লাভজনক করে তুলতে পারে।

আগস্টের শুরুর দিকে সাময়িকভাবে কেনা বন্ধ থাকলেও ভারতীয় পরিশোধনকারীরা আবারও ইউরাল গ্রেড কেনা শুরু করেছে। জুলাইয়ে এই গ্রেডের তেলে মাত্র ১ ডলার ছাড় থাকলেও গত সপ্তাহে ছাড় বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ২.৫০ ডলার। এবার তা আরও বাড়ানো হলো।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে অংশ নিয়ে বলেন, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে রয়েছে একটি “বিশেষ সম্পর্ক”। একই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পর মোদি জানান, ভারত চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হতে চায়। ভারতের এই অবস্থান পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি বেইজিংয়ের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়ন দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতের অবস্থানকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের হামলার আগে ভারত রাশিয়ার তেল প্রায় কিনতই না। এখন রাশিয়ার তেল পরিশোধনকারীরা ছাড় দিয়ে বিক্রি করছে, ভারত তা কিনে পরিশোধন করে ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায় বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্র সচল থাকছে।”

তবে ভারতের পাল্টা বক্তব্য, মস্কোর কাছ থেকে তেল কেনায় কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়ার তেল আমদানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেনি। তাই ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তার কথা ভেবে বাজার-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যারেলপ্রতি ৩–৪ ডলারের ছাড় ভারতীয় পরিশোধনকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা বয়ে আনবে। এর ফলে ভারতীয় রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে চাপ তৈরি হবে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

রাশিয়ার ইউরালস হলো দেশটির প্রধান অপরিশোধিত তেলের গ্রেড, যা পশ্চিমা বিভিন্ন বন্দর থেকে রপ্তানি করা হয়। ক্রমবর্ধমান ছাড় শুধু ভারতের আমদানি বাড়াবে না, বরং বিশ্ব তেলের বাজারেও মূল্যসাম্য প্রভাবিত করতে পারে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

পাকিস্তানের স্থাপনায় আফগানিস্তানের ড্রোন হামলা

পাকিস্তানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে আফগানিস্তান ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। আফগানিস্তানের তিনটি অঞ্চলে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর প্রতিশোধমূলক...

বিমানবন্দরে ৫০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ যুবক আটক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ এক যুবককে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। আটক ব্যক্তির নাম রাসেল আহমেদ (২৯)। এ...

Related Articles

নেতানিয়াহুর হত্যার গুজব ভুয়া, অফিস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু...

যুদ্ধবাজ ট্রাম্পকে নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেন পোপ লিও

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোপ লিও। রোববার (১৫...

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে সৌদি থেকে আমেরিকানদের ত্যাগের আহ্বান

সৌদি আরবে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে রিয়াদে অবস্থিত...

কয়েক সপ্তাহেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ হবে: মার্কিন জ্বালানি সচিব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন জ্বালানি...