২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে অন্যতম বৃহৎ ও সমন্বিত ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ধেয়ে আসা মোট ২৮৩টি ড্রোন ভূপাতিত বা প্রতিহত করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো। দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন, শুধুমাত্র তার এলাকাতেই প্রায় ৯০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা ২৭টি ড্রোন শহরের উপকণ্ঠেই প্রতিহত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সারাতভ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় বেশ কিছু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গভর্নর রোমান বুসারগিন টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, সেখানে ড্রোন বিস্ফোরণে অন্তত দুইজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মূলত রাশিয়ার সামরিক শক্তি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিতেই এই পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
এমন এক উত্তাল সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের আভাস দিয়েছেন। তিনি জানান, দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ অবসানের পথ খুঁজতে এবং স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেন ও মার্কিন আলোচকরা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
জেলেনস্কি আরও উল্লেখ করেন যে, গত মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে রাশিয়াকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার যে প্রক্রিয়াটি থমকে গিয়েছিল, সেটি নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ও ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে কিয়েভ। রণক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা বাড়লেও, পর্দার আড়ালে শান্তি আলোচনার এই তোড়জোড়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেন নিয়মিতভাবে রাশিয়ার ভূখণ্ডের ভেতরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এই কৌশলগত আক্রমণ অপরিহার্য।
Leave a comment