ইরানে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে দেশবাসীকে রাস্তায় এবং মসজিদে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন হাসান খোমেনি। তিনি ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি এবং ভবিষ্যৎ সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে হাসান খোমেনি বলেন, “এক মুহূর্তের জন্যও রাস্তা এবং মসজিদ ত্যাগ করবেন না। আমাদের শক্তি, জনগণের হৃদয় এবং জনগণের উপস্থিতিই আমাদের এখানে টিকিয়ে রেখেছে।”
তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে মসজিদে অবস্থান নিতে হবে এবং মসজিদগুলো পূর্ণ রাখতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের মসজিদ ও চত্বরই দেশের শক্তিশালী ভিত্তি।
হাসান খোমেনি বলেন, “প্রতিটি চত্বর জনগণের দখল করা উচিত। তারা কালো পোশাক পরবে এবং হাতে ইমাম হুসেইনের পতাকা ধরবে।” শিয়া মুসলিমদের কাছে ইমাম হুসেইন প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের প্রতীক।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন আহ্বান ইঙ্গিত দেয় যে সরকারপন্থী ধর্মীয় মহল জনগণের দৃশ্যমান উপস্থিতিকে মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। রাস্তায় ও মসজিদে ব্যাপক সমাবেশ দেশের ভেতরে সংহতির বার্তা দিতে পারে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি প্রতিরোধী চিত্র তুলে ধরতে পারে।
তবে সমালোচকরা মনে করেন, সংঘাতের সময় জনসমাগম বাড়ানো নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়ায়।
হাসান খোমেনি বর্তমানে কোনো সরকারি পদে নেই। দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা বা শাসক শ্রেণির ভেতরে তার প্রভাব সীমিত বলেই বিশ্লেষকরা মনে করেন। তিনি অনেক সহকর্মীর তুলনায় কম কঠোরপন্থী হিসেবে পরিচিত।
২০১৬ সালে ইরানের এক্সপার্টস অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল, যা সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে তার বর্তমান বক্তব্য নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতার পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরাধিকার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উভয় ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাব ফেলেছে। সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের কারণে হাসান খোমেনির বক্তব্য ও অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পায়, যদিও তিনি আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার কাঠামোর বাইরে অবস্থান করছেন।
Leave a comment