ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির খবর বিশ্বজুড়ে স্বস্তি ছড়ালেও বাস্তবে রণক্ষেত্রের চিত্র ভিন্ন। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালেও ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে ইসরায়েলি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই তেহরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি এক চরম অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, ইসরায়েলও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। উল্টো ইরানের অভ্যন্তরে হামলা অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংঘাতের এই উত্তাপ কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা দ্রুত পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। বিবিসির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের জেরুজালেম শহরে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে। বাহরাইনে উচ্চশব্দে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাতার তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোঁড়া একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করছে। এমনকি সৌদি আরবেও অন্তত দুবার জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদের আসন্ন আলোচনার আগে এই পাল্টাপাল্টি হামলা মূলত একে অপরের ওপর কৌশলগত চাপ তৈরির চেষ্টা। তবে এই সংঘাত যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি আলোচনার টেবিলে পৌঁছানোর আগেই ভেস্তে যেতে পারে।
Leave a comment