দীর্ঘ উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় আসায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার প্রতিশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে।
মঙ্গলবার রাতে দুই দেশের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকেই তেলের বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এক বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে, যুদ্ধবিরতির এই ১৫ দিন হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রণালী অতিক্রমের আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জোড়া ঘোষণার প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১৪.৮৪ ডলার বা ১৩.০৬ শতাংশ কমে ৯৪.৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজার বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দাম প্রতি ব্যারেলে ১৬.১৩ ডলার বা ১৪.৩৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার এই পূর্বাভাস তেলের আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের আশার আলো দেখাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। প্রখ্যাত তেল বাজার বিশ্লেষক টনি সাইক্যামোর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজে অবরোধ শিথিলের ঘটনা বাজারের জন্য একটি চমৎকার সংকেত। উত্তেজনা নিরসনের এই প্রাথমিক পর্যায়টি প্রশংসনীয় হলেও আমাদের মনে রাখতে হবে বাজার এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।” তিনি আরও বলেন যে, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ সরবরাহ করা হয়। তাই এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া মানেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি কমে যাওয়া। ইসলামাবাদের আসন্ন আলোচনা যদি সফল হয়, তবে তেলের দাম আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a comment