বরিশাল সদর উপজেলায় মাদিনাতুল উলুম নূরানি ও হাফিজিয়া মাদরাসা এবং এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় এ আগুনের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার সময় মাদরাসা ও এতিমখানার ৩৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক পাশের একটি মসজিদে নামাজ আদায় করছিলেন। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও কেউ হতাহত হয়নি।
আগুনে শিক্ষার্থীদের আবাসিক কক্ষ, রান্নাঘর, পাঠদানের সরঞ্জাম, বইপত্র, বিছানাপত্রসহ প্রায় সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম জানান, নামাজ শেষে আগুনের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। তখন দেখা যায়, পুরো মাদরাসা দাউ দাউ করে জ্বলছে। তিনি বলেন, “আল্লাহর রহমতে ভেতরে কেউ না থাকায় বড় দুর্ঘটনা থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি।”
তিনি আরও জানান, আগুনে কোরআন শরিফের কিছু মলাট পুড়ে গেলেও এর হরফ ও আয়াত অক্ষত রয়েছে—যা উপস্থিত সবার কাছে বিস্ময়কর বলে মনে হয়েছে।
বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত মাদরাসা ও এতিমখানাটির পুনর্গঠনে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a comment