ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মো. হাসান (২৩) নামে এক তরুণকে নির্মমভাবে মারধর করেছে এলাকাবাসী। পিটুনির একপর্যায়ে তাঁর হাত–পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং ছুরি দিয়ে দুই চোখে আঘাত করা হয়। ধারণা করা হয়েছিল তিনি মারা গেছেন, তাই তাঁকে সড়কের পাশে ফেলে চলে যান স্থানীয়রা।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ঝিটকা বাজারে। পরে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় হাসানকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে ভোলা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
হাসান দেউলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রতন মাঝির ছেলে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিরুপম সরকার বলেন, হাসানের চোখ “তুলে নেওয়া হয়নি”, তবে ছুরি দিয়ে গুরুতরভাবে আঘাত করা হয়েছে। তাঁর হাত–পায়ের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশ, চৌকিদার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তাঁর তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। প্রায়ই তিনি অটোরিকশা থামিয়ে চাঁদা আদায় করতেন। গতকালও ঝিটকা বাজারের এক দোকানি থেকে চাঁদা তুলতে গেলে প্রতিবাদ করায় আরেক তরুণকে ছুরিকাঘাত করেন তিনি। এরপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁকে ধরে গণপিটুনি দেয়।
হাসানের বাবা রতন মাঝি দাবি করেন, দুই দিন আগে এলাকার রুবেলের সঙ্গে হাসানের মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে গতরাতে পরিকল্পিতভাবে হাসানকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে চোখে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাঁর ছেলে নিরপরাধ, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, হাসান এলাকায় একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা রয়েছে। এলাকাবাসীর হাতে গণপিটুনির পর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।
Leave a comment