ভারতের বেঙ্গালুরুর পিইএস ইউনিভার্সিটিতে (PES University) এক মুসলিম শিক্ষার্থীকে শ্রেণীকক্ষে ‘সন্ত্রাসী’ বলে সম্বোধন এবং ইসলাম-বিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত অধ্যাপক মুরলীধর দেশপাণ্ডেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে একটি ‘সুয়োমুটো’ বা স্বপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে।
গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমার্স বিভাগের একটি নিয়মিত ক্লাস চলাকালীন ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ক্লাসের মাঝপথে বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে অধ্যাপক দেশপাণ্ডে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি কোনো কারণ ছাড়াই ওই শিক্ষার্থীকে জনসমক্ষে ‘সন্ত্রাসী’ বলে গালি দেন এবং অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত অধ্যাপক ওই ছাত্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তোমাদের মতো মানুষের কারণেই ইরানে যুদ্ধ হচ্ছে” এবং “ট্রাম্প তোমাদের ধরে নিয়ে যাবে।” যদিও ভিডিওর সব অংশ স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি, তবে উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থী এই বিদ্বেষমূলক আচরণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিকভাবে বিষয়টি একটি সাধারণ ডায়েরিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, জনরোষ ও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বেঙ্গালুরু পুলিশ ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং শান্তি ভঙ্গের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মামলা রুজু করেছে।
ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর জওহর দোরেস্বামী অভিযুক্ত অধ্যাপককে বরখাস্তের ঘোষণা দেন। তিনি একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের কথা বলেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, নির্যাতিত শিক্ষার্থীর সমর্থনে সরব হওয়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অজুহাতে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব ইন্ডিয়া (এসআইও) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা মুসলিম বিদ্বেষ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে।” তারা দোষী অধ্যাপকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা ও ঘৃণা ছড়ানোর এই প্রবণতা দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলছে।
Leave a comment