থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হওয়া সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে চমৎকার সূচনা করেছে বাংলাদেশ নারী দল। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিজেদের প্রথম ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ৩–১ গোলে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে শক্ত বার্তা দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, যিনি জোড়া গোল করে জয়ের ভিত গড়ে দেন।
এর আগের দিন, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পুরুষ বিভাগে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার লড়াইটি শেষ হয় ৪–৪ গোলের রোমাঞ্চকর ড্রয়ে। টানা দুই দিনে একই ভেন্যুতে দুই দেশের নারী ও পুরুষ ফুটসাল দলের মুখোমুখি হওয়ায় ব্যাংককের ক্রীড়াঙ্গনে বাড়তি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নারী ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশ। ফুটসালের দ্রুতগতির খেলায় আক্রমণ ও রক্ষণের সমন্বয় বজায় রেখে দলকে নেতৃত্ব দেন সাবিনা খাতুন। প্রথমার্ধেই কৃষ্ণা রাণী সরকারের নিখুঁত দুইটি অ্যাসিস্ট থেকে পরপর দুটি গোল করেন সাবিনা। এতে বিরতিতে যাওয়ার আগেই বাংলাদেশ ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
শুধু গোল করাই নয়, রক্ষণ সামলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সাবিনা। ফুটসালের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী একজন খেলোয়াড়কে দুই প্রান্তেই দায়িত্ব পালন করতে হয়, আর সেই পরীক্ষায় সাবিনা ছিলেন অনবদ্য। ম্যাচ চলাকালে ধারাভাষ্যকাররাও তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের প্রশংসা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ভারত ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণ চালালেও বাংলাদেশের গোলরক্ষক ঝিলিক বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন। ভারতের চাপ সামলে বাংলাদেশ পাল্টা আক্রমণে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুমাইয়া মাতসুসিমা দারুণ একটি গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন ৩–০।
কয়েক মিনিট পর ভারত একটি সান্ত্বনার গোল পেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর ফিরে পায়নি। শেষ পর্যন্ত ৩–১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয়ের আনন্দ নয়, বরং দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ফুটসালে বাংলাদেশের নারীদের ফিরে আসার প্রতীকও বটে। ২০১৮ সালে এই থাইল্যান্ডেই এশিয়ান ফুটসাল বাছাইয়ে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। সাত বছর পর আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পেল তারা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রাণী সরকার, মাসুরা ও সুমাইয়াকে নিয়মিত স্ট্যান্ডার্ড ফুটবল জাতীয় দলে ডাকেননি ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার। ফলে তারা ফুটসালকে বিকল্প মঞ্চ হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য হন। তবে ফুটসালেও যে তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কতটা মূল্যবান, এই ম্যাচে সেটিই প্রমাণ হয়েছে। সাবিনা ও সুমাইয়ার দেশের বাইরে ফুটসাল লিগে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল, যা এই টুর্নামেন্টে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের লড়াই বরাবরই ক্রীড়াঙ্গনে বাড়তি উত্তেজনার জন্ম দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটে মুস্তাফিজুর রহমান ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তার রেশও ছিল আলোচনায়। এমন আবহেই থাইল্যান্ডে টানা দুই দিন ফুটসালে মুখোমুখি হয় দুই দেশের নারী ও পুরুষ দল। তবে দুই ম্যাচেই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, যা ক্রীড়া-সৌহার্দ্যের একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
নারী দলের এই জয়, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। সামনে কঠিন ম্যাচ থাকলেও সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে এই দল যে সাফ ফুটসালে বড় কিছু করতে চায়, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
Leave a comment