বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধা জাহেরা খাতুন-এর সঙ্গে প্রতারণা করে পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জাতীয় সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের সাবেক মহাসচিব এ বি এম গোলাম কাদির (জিকে বাবুল)-কে দুই বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আশরাফ উদ্দিন জানান—প্রতারণার দায়ে ১ বছর ১ মাস সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড।
বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে । এই সাজা পৃথকভাবে কার্যকর হওয়ায় মোট ২ বছর ১ মাস কারাভোগ করতে হবে।
দণ্ডিত জিকে বাবুলকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর ছবি তুলতে গেলে তার ছেলে সৈয়দ সালেহীন কাদির সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং কয়েকজনকে হেনস্তা করে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, জাহেরা খাতুন একজন অসচ্ছল বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা। আসামি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন-এর মহাসচিব পরিচয় দিয়ে সরকারের আবাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাট পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
২০২২ সালের ১০ মার্চ ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় তার অফিসে জাহেরা খাতুন ও তার মেয়ে জুমি আক্তার পাঁচ লাখ টাকা দেন।
তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো ফ্ল্যাট বরাদ্দ না পাওয়ায় তারা টাকা ফেরত চান। পরে আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হলে তারা দিতে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত না পেয়ে ২০২৩ সালের ২ মার্চ জুমি আক্তার আদালতে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত ও বিচার চলাকালে আদালত চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। পরে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের রায় দেন।
Leave a comment