অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো পদ্ধতিগত নিপীড়নকে একটি সুপরিকল্পিত ‘রাষ্ট্রীয় নীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ। সোমবার (২৩ মার্চ) জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে তার সর্বশেষ প্রতিবেদন পেশ করার সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।
‘নির্যাতন ও গণহত্যা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আলবানিজ উল্লেখ করেন, বিশ্ব সম্প্রদায় কার্যকরভাবে ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর একটি ‘লাইসেন্স’ বা অনুমতিপত্র দিয়ে রেখেছে। তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, “অধিকাংশ দেশের সরকার ও মন্ত্রীরা নিশ্চুপ থেকে এই অপরাধগুলো হতে দিচ্ছেন বলেই ইসরায়েল আজ এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে।” তার মতে, ইসরায়েলের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক স্তর থেকেই এই অবদমনমূলক কর্মকাণ্ডগুলো অনুমোদিত।
প্রতিবেদনে আরও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, এই নির্যাতন কেবল অন্ধকার জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং গণ-বাস্তুচ্যুতি, দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ, ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা বন্ধ রাখা এবং উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের লাগামহীন সহিংসতার মাধ্যমে পুরো অধিকৃত ভূখণ্ডকে একটি ‘সম্মিলিত শাস্তির’ কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। আলবানিজ সতর্ক করে বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনধারণের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ধ্বংস করে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া মূলত একটি ‘জেনোসাইডাল’ বা গণহত্যামূলক সহিংসতা।
জাতিসংঘের এই বিশেষ প্রতিবেদক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিগত নির্যাতন ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের এই চিত্রটি সিএনএন-সহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে। আলবানিজ তার প্রতিবেদনে বিশ্ব নেতাদের অবিলম্বে এই ‘নির্যাতনের লাইসেন্স’ বাতিল করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a comment