জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, শাহবাগে এক সমাবেশে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি করেছেন । তিনি আরও বলেছেন, ‘বিপ্লবের মাধ্যমে উৎখাত হওয়া দলকে পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কোনো নজির ইতিহাসে নেই।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়েছে, এটি কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে হয়নি। বিপ্লবের মাধ্যমে উৎখাত হওয়া দলকে পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো নজির নেই।” তিনি আরও বলেন, “এই বিষয়টি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ জায়গা দখল করে রয়েছে, এবং আমাদের দল তা অস্বীকার করতে পারে না।”
সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনীতিবিদরাই কেবল রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনাদের কাজ ক্যান্টনমেন্টে। আপনারা ক্যান্টনমেন্টেই থাকবেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপনাদের অবদানকে আমরা স্বীকার করি ও সম্মান করি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিন সরকারও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবং বিশেষভাবে তিনটি ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনে হত্যাযজ্ঞের জন্য আজও আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি।” এসব ঘটনা এখনও দেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং তার বিচারকে অবিলম্বে বাস্তবায়িত করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া তিনি আরও দাবি করেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে হওয়া গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আওয়ামী লীগকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষিদ্ধ করতে হবে।” এসব দাবি একদিকে যেমন রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতি আঙুল তোলে, তেমনি দেশের ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়গুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে।
সমাবেশে উপস্থিত এনসিপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারা আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং তাদের সহযোগীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবিও জানান।
Leave a comment