বান্দরবান সদর উপজেলার মেঘলা এলাকায় পাহাড়ের নিচে পড়ে থাকা অবস্থায় মা ও তাঁর চার বছর বয়সী শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে মেঘলা লালমোহন বাগান তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার একটি দুর্গম পাহাড়ি খাদ থেকে তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন রমেসিং মার্মা (৩০) এবং তাঁর কন্যা বৃষ্টি মার্মা (৪)। তাঁরা বান্দরবান শহরের মেঘলা এলাকার কানাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত থেকেই মা ও মেয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্থানীয়রা লালমোহন বাগানের একটি উঁচু পাহাড়ের নিচে তাঁদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, “মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে, তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।”
পাহাড়ের চূড়া থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে মৃত্যু হতে পারে বলে স্থানীয়দের একাংশ প্রাথমিক ধারণা করলেও, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। গভীর রাতে মা ও শিশু সন্তান কেন দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় গিয়েছিলেন এবং কীভাবে তাঁরা নিচে পড়ে গেলেন—এমন নানা প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। এলাকাবাসী এই ঘটনাটিকে ‘রহস্যজনক’ হিসেবে অভিহিত করে এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং কেউ দোষী থাকলে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a comment