চেচুরিয়ার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খনন করা আদর্শ গ্রামের খালের দুইটি মুখ অবরুদ্ধ করে বাঁধ নির্মাণ ও খাল ভরাটের ঘটনায় শফিকুর রহমান (৫০) নামের একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক করেছে। আদালত তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ওমর সানী আকনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শফিকুর রহমানকে খালের মাটি নিজ খরচে পুনরায় ভরাট এবং অবৈধ বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযানের পর রাত সাড়ে ১২টা থেকে পরের দিন বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিনি নিজ খরচে বাঁধ অপসারণ ও মাটি পুনরায় ভরাট করেন।
জানা গেছে, ১৯৭৭-৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খনন করা চেচুরিয়ার এই খাল বৈলছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে মেলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শফিকুর রহমান খাল ভরাট করে মাছ চাষের উদ্দেশ্যে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কাটছিলেন। খালের উভয় পাড়ের কিছু খাস জমি জবরদখল করে মাটি কাটার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসন ও বাঁশখালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ওমর সানী আকন গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে এক্সকেভেটরসহ তাকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোষ স্বীকারের পর তাকে দণ্ড প্রদান করা হয়।
বৈলছড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ দত্ত জানিয়েছেন, শফিকুর রহমান খালের কথা গোপন রেখে মাটি কাটার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর তিনি নিজ উদ্যোগে বাঁধ অপসারণ ও কেটে ফেলা মাটি পুনরায় ভরাট করেছেন। বাঁধ অপসারণ ও ভরাটের সময় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Leave a comment