ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় থাকা ব্যক্তিদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিভিন্ন পক্ষ।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইন্দ্রজিৎ দাস নামে এক ব্যক্তি, যিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর এম এ মালেক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। একই সঙ্গে তিনি বাকেরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ইন্দ্রজিৎ দাসকে অংশ নিতে দেখা গেছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ স্বাক্ষরিত প্রশিক্ষণ তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী পরিবেশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন সংগঠক ও সমর্থক, যাদের অনেকে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে ভোটগ্রহণের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অগ্রাধিকার।
তবে এ বিষয়ে বরিশাল জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বক্তব্য জানা যায়নি।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রিজাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে সামান্য সন্দেহ বা বিতর্কও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
Leave a comment