পর্তুগালে নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক খাদ্যপণ্য ক্রমেই দামের রেকর্ড স্পর্শ করছে, যা সাধারণ পরিবারের বাজেটকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলেছে। দেশটির ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘ডেকো প্রোটেস্ট’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত পুষ্টি ও খাদ্যের জন্য একটি পরিবারের ন্যূনতম মাসিক বাজেট বর্তমানে ২৫৪.৪০ ইউরোতে পৌঁছেছে। ২০২২ সাল থেকে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ মূল্য।
ডেকো প্রোটেস্টের তালিকাভুক্ত ৬৩টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মধ্যে গত এক সপ্তাহে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ০.০৮ ইউরো। যদিও এটি সামান্য মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঠিক এক বছর আগে একই পণ্য কিনতে ১৭.৪৬ ইউরো কম খরচ করতে হতো। সাম্প্রতিক দুই বছরের তুলনায় বাজারদর প্রায় ৩৫.৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থাৎ একই পণ্যের ঝুড়িতে ৬৬.৭০ ইউরো বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহে জুকিনি, টমেটো ও পেঁয়াজের দাম যথাক্রমে ১৭%, ১৫% এবং ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বছরের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বাঁধাকপির দাম বেড়েছে ৫৩%, গুঁড়ো কফি ৩৯% এবং সি-বাস মাছ ৩৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে গরুর মাংস (১২২%), বাঁধাকপি (৮৮%) এবং ডিম (৮৪%)।
এই দামবৃদ্ধি বিশেষ করে মাছ, মাংস, ফল-মূল ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে পর্তুগালের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। সরকারের নীতি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে এই পরিস্থিতির সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও কঠিন হতে পারে।
Leave a comment