পর্তুগালে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রস্তাবিত সংস্করণ নিয়ে দেশীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ডানপন্থী দল শেগা-র নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা সরকারি দল পিএসডি-র সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার সমাজতন্ত্রীদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে নিজস্ব নীতিমালা ও আদর্শ বিসর্জন দিচ্ছে। ভেনচুরার স্পষ্ট মন্তব্য, “যারা পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর গুরুতর অপরাধে জড়িত হয়, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করার মূল নীতি থেকে শেগা এক চুলও নড়বে না।”
নাগরিকত্ব আইনের নতুন সংস্করণে পিএসডি প্রস্তাব করেছিল, শুধুমাত্র ছয় বছরের বেশি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বাতিল হবে এবং ১৫–২৫ বছরের মধ্যে তা পুনরুদ্ধার করা যাবে। তবে শেগার নেতা ভেনচুরা এই নমনীয়তাকে মেনে নিতে নারাজ। তিনি বলেন, যারা পর্তুগিজ ভাষা জানে না বা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত নয়, তারা দেশের নাগরিক হতে পারবে না। পাশাপাশি, অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব না দেওয়া এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হওয়ার শর্ত নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন তিনি।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্তুগালের সাংবিধানিক আদালত পূর্ববর্তী নাগরিকত্ব আইনের কিছু ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। ওই সিদ্ধান্তের পর প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুসা আইনটিতে ভেটো প্রদান করেন। সংসদে আইনের পর্যালোচনা হলেও ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না থাকার কারণে নতুন আইন পাস করা অনিশ্চিত। ভেনচুরা আরও অভিযোগ করেছেন, সরকার সমাজতন্ত্রীদের চেয়ে বেশি সমাজতন্ত্রী হতে চাচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাগরিকত্ব আইনের এই দ্বন্দ্ব শুধু সংবিধানগত নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়েও বিভাজনের ঝুঁকি তৈরি করছে। দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো এই সংকট সমাধানে এখনো কোনো সমন্বিত পদক্ষেপে পৌঁছাতে পারেনি।
Leave a comment