পর্তুগালে বসবাসরত নথিপত্রহীন অভিবাসীদের জন্য নতুন প্রস্তাবিত অভিবাসন বিল নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংসদে সোমবার উত্থাপিত এই বিল অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কেবল অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান পর্তুগালে থাকলেই কোনো অভিবাসীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যাবে না—এটি আর স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা হিসেবে গণ্য হবে না। সরকারের নতুন “রিটার্ন প্যাকেজ” বা প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার আওতায় অভিবাসন আইনের ১৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে শত শত প্রবাসী পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
বর্তমান আইন অনুসারে, কোনো অভিবাসীর সন্তান পর্তুগালে থাকলে তা তাদের বহিষ্কার ঠেকানোর ক্ষেত্রে শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। তবে নতুন বিলের দুইটি কঠোর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে: সংশ্লিষ্ট অভিবাসীকে কমপক্ষে টানা ৫ বছর সশরীরে পর্তুগালে বসবাসের প্রমাণ দিতে হবে এবং সন্তানের অবশ্যই বৈধ রেসিডেন্স পারমিট থাকতে হবে। পূর্বে এই শর্তগুলো এত কঠোর ছিল না, ফলে অনেক নথিপত্রহীন অভিভাবক মানবিক কারণে দেশটিতে থাকতে পারতেন।
‘ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম’-এর বিশেষজ্ঞরা এবং মানবাধিকার কর্মীরা এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছেন, এটি শিশুদের মৌলিক সুরক্ষা হ্রাস করবে এবং পরিবারের বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি বাড়াবে। সরকার অবশ্য সাফ জানিয়েছে, বহিষ্কারের হাত থেকে সুরক্ষা পেতে অভিভাবকদের এখন থেকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সন্তানের লালন-পালন ও শিক্ষার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন।
বিলটি বর্তমানে চূড়ান্ত বিতর্কের জন্য জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়েছে, এবং দেশজুড়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসী সম্প্রদায় গভীরভাবে নজর রাখছে এর কার্যকারিতার দিকে।
Leave a comment