রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) এই দুর্ঘটনার উদ্ধার তৎপরতা সরাসরি তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঘটনার পরপরই বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’, ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি বিশাল উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ডুবুরি দল ও ‘হামজা’র সহায়তায় বাসটিকে পানির নিচ থেকে টেনে তুলতে সক্ষম হয় উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারকৃত বাসের ভেতর থেকে ১৪ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে স্থানীয়রা আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছিলেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মধ্যরাতে এক জরুরি বার্তায় জানান, প্রধানমন্ত্রী এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধার অভিযান দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রী আরও বলেন, “এ ধরনের হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান করা হবে।”
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে-কে আহ্বায়ক এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাসকে সদস্য সচিব করে গঠিত এই কমিটিতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং বিআইডব্লিউটিসি-এর প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানিয়েছেন, তদন্তে যদি কারো গাফিলতি বা ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
পদ্মা পাড়ের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি জনমনে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যানবাহন
পারাপারের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের পক্ষ থেকে বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
Leave a comment