বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম বা জাতপাত নয়—দেশের মানুষই তাদের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেই দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় বিসিক শিল্পপার্কে আয়োজিত এক বৃহৎ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘদিন পর তার উপস্থিতিকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করতে চাই। আমাদের কাছে ধর্ম মুখ্য নয়, মুখ্য হচ্ছে দেশের মানুষ। আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা গেলে জনগণের মৌলিক সমস্যা ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান করা সহজ হবে।
ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহু মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি সিরাজগঞ্জের এক নারী ‘মেরি’র উদাহরণ টেনে দাবি করেন, ভোটকেন্দ্রিক আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তার ভাষায়, “এ রকম হাজারও মেরি বাংলাদেশে আছেন, যারা রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
তিনি বলেন, গত এক যুগের বেশি সময় ধরে যে প্রতিবাদ হয়েছে, তা ছিল রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে। “এই অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু সভা-সমাবেশ করলেই হবে না, জনগণকে নির্দিষ্ট দিনে সোচ্চার হতে হবে,”—এমন আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে মঞ্চে উপস্থিত হন তারেক রহমান। তার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। দলীয় নেতারা জানান, প্রায় ১৯ বছর পর সিরাজগঞ্জে এ ধরনের জনসভায় অংশ নিলেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে এ জেলায় জনসভা করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
সকাল ১০টা থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। দুপুর নাগাদ বিসিক শিল্পপার্কের মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। দলীয় প্রতীক ও স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা।
জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে বিকাল পৌনে ৩টার দিকে জনসভা শুরু হয়। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়া বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরিবেশে এ ধরনের বড় সমাবেশ দলীয় কর্মীদের সক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সহাবস্থানের প্রশ্নকে সামনে এনে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশলও এতে স্পষ্ট হয়।
Leave a comment